ইসলামের পাঁচ খুঁটির মধ্যে অন্যতম খুঁটি হলো যাকাত। ঈমানের পরে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি হলো সালাত এবং যাকাত। পবিত্র কুরআন মজীদে অনেক জায়গায় সালাত-যাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং মহান আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ সাওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র আল-কুআনে মহান আল্লাহ বলেছেন- ‘তোমরা নামাজ আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। তোমরা যে ভালো কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা সব দেখছেন। (-সূরা বাকারা : ১১০)
যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পরিশুদ্ধ হওয়া। অর্থাৎ আপনার সম্পদের থেকে গরিব অসহায় মানুষদের অংশ হিসেব করে বের করে তা প্রদান করে নিজের আত্তশুদ্ধিকেই যাকাত বলে। যাকাত আদায়ের ফলে সমাজে ধনি গরিবের মাঝে বৈষম্য কমে যায়। এবং গরিব অসহায় মানুষরা যাকাতের সম্পদ ব্যাবহার করে ভালোভাবে সংসারের ব্যায় বহন করতে পারে সেই টাকা কাজে লাগাতে পারে ব্যাবসায় এবং নিজের পায়ে দাড়াতে পারবে এভাবে সমাজে গরিব অসহায় মানুষের সংখ্যা কমানো সম্ভব।
অনেকেই মনে করেন যাকাত আদায় করলে তার সম্পদ কমে যাবে কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বলেন যারা তাদের সম্পদের যাকাত আদায় করবে তাদের সম্পদে বরকত প্রদান করা হবে। তার মানে যদিও মনে হতে পারে যাকাত দিচ্ছেন সম্পদ চলে যাচ্ছে কিন্তু আসলে যাকাত আদায় করলে সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র আল-কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের বৈধ উপার্জন এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যে শস্য উৎপাদন করি তা থেকে আমার নির্দেশিত পথে প্রদান (যাকাত দাও) কর।’ (সূরা বাকারাঃ ২৬৭)।
যাদের উপর জাকাত ফরজ : ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী এমন প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ও নারীর উপর যাকাত আদায় করা ফরজ, যাদের মধ্যে এইগুলি পাওয়া যায়- ১. মুসলিম, ২. স্বাধীন, ৩. আকেল হওয়া, ৪. বালেগ হওয়া, ৫. নিসাব পরিমান সম্পদ থাকা, ৬. পূর্ণাঙ্গ মালিকানা থাকা, ৭. সম্পদের মালিকানা পূর্ণ একবছর অতিবাহিত হওয়া।
এছাড়া পবিত্র আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, সালাত ও যাকাত আদায় ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব নয়। পবিত্র আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে, যেখানে খাঁটি ঈমানদারের গুণ ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে সালাত এবং যাকাতের কথা এসেছে বাধ্যতামূলকভাবে।
পবিত্র আল-কুরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত ঈমানদারদের পরিচয় যেখানে দেওয়া হয়েছে সেখানে সালাত এবং যাকাতের কথা উল্লেখ এসেছে। (সূরা বাকারাঃ১৭৭)
ঈমানদারদের বন্ধু কারা-এই প্রশ্নের উত্তরেও সালাত এবং যাকাতের প্রসঙ্গ শামিল রয়েছে। (সূরা মায়েদা : ৫৫)
‘সৎকর্মকারীদের বৈশিষ্ট্য ও কর্মের তালিকায় সালাত এবং যাকাতের প্রসঙ্গ অনিবার্য। (সূরা লুকমান : ৪)
পবিত্র আল-কুরআন মজীদ কাদের জন্য হেদায়েত ও কাদের জন্য শুভসংবাদ দাতা-এর উত্তর পেতে চাইলেও সালাত এবং যাকাত অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। (সূরা নামল : ৩)
তাই আসুন সকলে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি যাকাত আদায় করি নিজে পরিশুদ্ধ থাকি অপরকে ভালো রাখি।
যাকাত প্রদানকারীর জন্য যাকাত দেওয়াকে দয়া হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। মালের নেসাব পরিমাণ যাকাত প্রদান করা ‘দয়া নয়’ বরং এটা আল্লাহ নির্ধারিত ‘গরিবের হক’। ইসলামী শরীয়ত মতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে যাকাত প্রদান করা গেলে দারিদ্রমুক্ত একটি শক্তিশালী ইসলামিক অর্থনৈতিক সমাজ কিংবা রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। যাকাত ধনী ও গরীবের মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
কিন্তু দুঃখের কথা হচ্ছে আমাদের সমাজে সম্পদ আছে অনেক, নামাজ পড়েন এবং রোজাও রাখেন কিন্তু যাকাত আদায় করেন না এমন অনেক মুসলমান আছেন। এমন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে যাকাত আদায় না করার কারণে মহান আল্লাহ ভয়াবহ পরিণতির কথা বলেছেন।
মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র আল-কোরআনে এরশাদ করেন, ‘‘যারা সোনা ও রূপা জমিয়ে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যায় করে না, তুমি তাদের কষ্টদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেয়া হবে। (আর বলা হবে) ‘এটা তা-ই যা তোমরা নিজদের জন্য এগুলি জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ কর”। সূরা আত-তওবা: (৩৪-৩৫)



0 মন্তব্যসমূহ