হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সকল উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হলো ফরজ ইবাদত।  ইসলামের পাঁচ খুঁটির মধ্যে অন্যতম হলো নামাজ। নামাজকে জান্নাতের চাবি বলা হয় কারন চাবি ছাড়া যেমন তালা বদ্ধ ঘর খোলা যায়না তেমন নামাজ ছাড়া জান্নাতের কোনো দরজা খুলবেনা তার মানে নামাজ আদায় না করলে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবেন এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেন। 

সারাদিনে আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয়। 

১/ ফজর।

২/ যোহর।

৩/ আসর।

৪/ মাগরিব। 

৫/ এশা।

এই সকল নামাজ আদায়ের পূর্বে ওযু করে পবিত্রতা লাভ করতে হয়। 

একজন মানুষ মুসলিম হিসেবে পরিচয় লাভ করতে হলে তাকে প্রথমে ইমান আনতে হবে মহান আল্লাহর উপর। বিশ্বাস করতে হবে মনে প্রাণে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নাই এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত নবী এবং রাসুল। একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমানের প্রথম দায়িত্ব আল্লাহর উপর এবং তার রাসুলের উপর ইমান আনা এবং এর পরের ধাপেই নামাজ বা সালাতের অবস্থান।  সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দোয়া, তাসবিহ, রহমত বা দয়া, ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদি।

অন্যভাবে বলা যায় নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট নিয়মে ইবাদত করার নামই সালাত। 

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মেরাজে যান তখন মহান আল্লাহ তা'আলা নবীজি এবং তার উম্মতদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দেন। মহা গ্রন্থ পবিত্র আল-কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ৮২ বার সালাত তথা নামাজের কথা বলেছেন এতে করে বুঝাই যায় ইসলামে নামাজের গুরুত্ব কতো বেশি। ফরজ ইবাদত মানে হলো যেই ইবাদত পালন করা বাধ্যতামূলক। 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা'আলা নামাজ আদায় করার জন্য বিষেশ ভাবে আদেশ করেছেন-  ‘আর তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো; যাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো’ (সূরা বাকারা, আয়াত-৪৩)। ‘হে নবী! আমার বান্দাদের মধ্যে যারা ইমানদার বা মুমিন তাদের বলুন, নামাজ কায়েম করতে’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত-৩১)। ‘তোমরা লোকদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলবে এবং নামাজ আদায় করবে’ (সূরা বাকারা, আয়াত-৮৩)। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তুমি বলে দাও, আমার রব ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় তোমাদের মুখমণ্ডল স্থির রেখো’ (সূরা আরাফ, আয়াত-২৯)। ‘অতএব, আল্লাহকে সিজদা করো এবং তার ইবাদত করো’ (সূরা নাজম, আয়াত-৬২)।

নামাজ আদায়ের আরেকটি দিক হলো নামাজ মানুষকে খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে দূরে রাখে। মহান আল্লাহ তা'আলা পবিত্র আল-কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবুত, আয়াত-৪৫) ‘যারা পবিত্র কিতাব আল-কুরআনকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করে আমি এরূপ সৎকর্মশীলদের কর্মফল নষ্ট করি না’ (সূরা আরাফ, আয়াত-১৭০)।

মানুষের জীবনে বিপদ আপদ আসলে একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো ধৈর্য ধারন করা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য পার্থনা করা তা অবশ্যই নিয়মিত নামাজের মাধ্যমে হতে হবে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা পবিত্র আল-কুরআনে বলেছেন  ‘অশান্তি বা গোলযোগের সময় হলে পায়ে হেঁটে নতুবা বাহনে চড়ে যেভাবেই সম্ভব নামাজ আদায় করো। আর যখন শান্তি স্থাপিত হয়ে যায় তখন আল্লাহকে সেই পদ্ধতিতে স্মরণ করো, যা তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, যে সম্পর্কে ইতঃপূর্বে তোমরা অবহিত ছিলে’ (সূরা বাকারা, আয়াত-২৩৯)। 

হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মৃত্যু সজ্যায় তখনো তিনি বলেছেন একটা কথা বার বার তোমরা নামাজ ছেড়ে দিয়োনা। এবং পৃথিবীতে তার বলা শেষ কথা গুলোর একটি হলো নামাজ ছেড়ো না। এর মাধ্যমে অনুধাবন করা যায় মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য নামাজ বা সালাতকে কতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নাজিল করেছেন। যারা নামাজ আদায় করবেনা তারা জান্নাতেও প্রবেশ করবেনা।

আর্টিকেলটি যদি ভালো লাগে তাহলে সেয়ার করে দিবেন।